স্বামীজীর মা::--

 স্বামীজীর মা::--


স্বামী বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবী

(১৮৪১---১৯১১)

 ১৯১১ সালে প্রয়াত হন। তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা এবং স্বামী বিবেকানন্দের আধ্যাত্মিক জীবনে তাঁর গভীর প্রভাব ছিল। তিনি ছিলেন স্বামীজির জ্ঞান বিকাশের অনুপ্রেরণা। 

ভুবনেশ্বরী দেবী ১৮৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১১ সালের ২৫শে জুলাই মারা যান। তিনি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের পিতা বিশ্বনাথ দত্তের স্ত্রী এবং নরেন্দ্রনাথ দত্ত (পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দ) সহ তাঁর পাঁচ সন্তানের জননী। তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতিবান মহিলা, যিনি সঙ্গীত ও আবৃত্তিতে পারদর্শী ছিলেন এবং রামায়ণ ও মহাভারত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। স্বামী বিবেকানন্দ তার মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখতেন এবং প্রায়ই তাঁর আধ্যাত্মিক ও জ্ঞান বিকাশে মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করতেন। 


স্বামী বিবেকানন্দ একবার বলেছিলেন- "আমার জ্ঞানের প্রসারের জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।" আমরা জানি ভুবনেশ্বরী দেবীর ধর্মীয় স্বভাব শৈশবে নরেন্দ্রনাথকে অত্যন্ত প্রভাবিত করেছিল। 


 স্বামীজির ১৬১তম জন্মবার্ষিকী। যুব সমাজের নবজাগরণের পথিক বিবেকানন্দ । স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে যতটা প্রভাব ছিল তাঁর মা,রত্নগর্ভা ভুবনেশ্বরী দেবীর। ঠিক ততটাই প্রভাব ছিল তাঁর আরেক মা, 'মা'সারদা দেবীর।



 মা তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলেন, ' *জীবনে যেটা সত্য বলে জানবে, কখনও সেই আদর্শ থেকে সরে এস না।'* অনুপ্রাণিত বিবেকানন্দ পরে বলেছিলেন, “ *সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা যায়, কোনও কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা যায়না।


স্বামী বিবেকানন্দের জননী শ্রীমতী ভুবনেশ্বরী দত্ত ১৯১১ সালে ২৫শে জুলাই মহাসমাধি লাভ ...




 









আজ 25th Julyআজকের দিনে স্বামীজীর মা এইপৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অমৃতলোকে যাত্রা করেন 1911তে | সকল  ভক্তের প্রণাম গ্রহণ করুন শিবঠাকুরের মা |

সত্যি উনি শুধু বিবেকানন্দের মা ই ছিলেন না উনি প্রকৃতই ছিলেন "শিব ঠাকুরের মা"


   এই প্রসঙ্গে খেতড়ি মহারাজকে লেখা স্বামীজীর একটি চিঠি এখানে উল্লেখ করা হলো।

মায়ের জন্য-----খেতড়ী মহারাজ ও স্বামীজী --- এ কথা ঠিক স্বামীজী সবচেয়ে বেশী চিঠি লিখেছেন, আলসিঙ্গা পেরুমলকে, তারপর খেতড়ী মহারাজকে |স্বামীজীর চিঠিগুলি যেন মণি- মুক্তা ,খেতড়ীমহারাজকে লেখা চিঠির কিছু অংশঃ 

1st Dec,1898 মঠ, বেলুড়, হাওড়া

মহারাজা,

আপনার তারবার্তা আমায় যে আনন্দ দিয়াছে তাহা বর্ণনাতীত| এমন বার্তা আপনার মত মহান ব্যক্তিরই যোগ্য |আমি কি চাই তাহা বিশদভাবে লিখিলাম |

কলকাতায় একটি ছোটখাটো বাড়ী নির্মাণের নুন্যতম খরচ আনুমানিক দশ হাজার টাকা |সংসার খরচের জন্য মাসিক একশত টাকা আপনি যে আমার মাকে পাঠাইয়া থাকেন তাহা তাঁহার পক্ষে যথেষ্ট | যদি আমার জীবদ্দশা পর্যন্ত আমার ব্যায় নির্বাহের জন্য আরও একশত টাকা পাঠাইতে পারেন তবে আমি বড়ই খুশী হইব ;কিন্তু এই বাড়তি একশত টাকা আপনাকে খুব বেশী দিন বহন করিতে হইবে না কেননা আমি বড়জোর আর দু-এক বৎসর বাঁচিব |আমি আর একটি ভিক্ষা এখানে চাহিব |মায়ের জন্য একশত টাকার সাহায্যটি সম্ভব হইলে আপনি স্হায়ী রাখিবেন | মহারাজা যেন সাধুর দুঃখী বৃদ্ধা মাতার প্রতি এই করুণা বর্ষণ করেন|••••••••••••••

যে -জগন্মাতার লীলা-খেলা এই বিশ্বচরাচর,যাঁহার হাতে আমরা যন্ত্রমাত্র----তিনি যেন আপনাকে সকল অমঙ্গল হইতে রক্ষা করেন |

ভগবানের নামে চিরদিন আপনার ----

বিবেকানন্দ

প্রিয় পাঠকবৃন্দ আপনি যদি চিঠিগুলি পড়তে ইচ্ছুক হন তবে স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের এক বিস্মৃত অধ্যায় বইটি সংগ্রহ করুন  | বংলা অনুঃ প্রাচী পাবঃ

==========================




Comments

Popular posts from this blog

||বেলুড়মঠের প্রতিষ্ঠার কথা::---

গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।