Posts

শ্রী মা সারদা দেবী ব্যাঙ্গালোরে শুভ পদার্পণ করেছিলেন ৷

  শ্রী মা সারদা দেবী ব্যাঙ্গালোরে শুভ পদার্পণ করেছিলেন ৷  ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীশ্রীমা রামকৃষ্ণ আশ্রম, ব্যাঙ্গালোরে শুভ পদার্পণ করেছিলেন ৷ সেইসময় একদিন তিনি আশ্রমের ঠাকুরঘরের পিছন দিকে যে-ছোট টিলা আছে সেখানে ওঠেন এবং পশ্চিমাস্য হয়ে ধ্যানে বসেন ৷ সেই ঘটনার উল্লেখ করে পূজ্যপাদ স্বামী যতীশ্বরানন্দ মহারাজ বলেন, "আমি স্বপ্ন দেখলাম, মা যেন ওই টিলাটিকে দেখিয়ে বলছেন, 'ওখানে আমার একটা জায়গা করে দাও' ৷" সেই নির্দিষ্ট স্থানে মহারাজ ছোট্ট একটি মন্দির বানিয়েছেন ৷ খুবই অনাড়ম্বর গঠনশৈলী — বাক্সের মতন একটা ঘর, কাচ আর ধাতুর পাতে মোড়া ৷ ভিতরে শ্রীশ্রীমায়ের প্রতিকৃতি — পশ্চিমদিকে মুখ করে বসানো, তিনি ঠিক যেভাবে বসেছিলেন ৷ জায়গাটা কিন্তু রোদ্দুরে খুবই তেতে ওঠে ৷ — পড়ন্ত রোদকে আটকানোর মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় শ্রীশ্রীমার ছবিতে সোজাসুজি রোদ এসে পড়ে ৷  মহারাজ : আমি কী করব বলো, মা যে ওই জায়গাটাই নির্বাচন করেছেন !" শিষ্যা : "ওখানে কিন্তু খুবই গরম ৷" মহারাজ : "আমার কিছু করার সাধ্য কই ? মা তো তাঁর জীবদ্দশায় পঞ্চতপা করেছিলেন ৷" ■■■■■■◆◆◆◆◆◆◆◆■■■■■■■ 1910 ईसवी...

31>|| বেলুরমঠ ||

               31>|| বেলুরমঠ || *রামকৃষ্ণলোক*সঙ্ঘজননী শ্রীশ্রীমায়ের বেলুড় মঠের জমিতে শুভ পদার্পণ ঘটে ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ সোমবারে।* মঠ তখন নীলাম্বরবাবুর ভাড়াবাড়িতে। শ্রীশ্রীমা প্রথমে সেখানে আসেন। *'মা যাবার [কলকাতায় ফিরবার] আগে যেন মঠের নূতন জমিতে একবার পদধূলি দিয়ে যান।'----স্বামী ব্রহ্মানন্দের এই সানুনয় প্রার্থনায় মায়ের সেদিন ঐ জমি দেখতে যাওয়া।"* এরপর পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী *১২ নভেম্বর ১৮৯৮, শ্রীশ্রীমা প্রথমে নীলাম্বরবাবুর ভাড়াবাড়িতে অবস্থিত মঠে ও পরে মঠের সাধুদের সঙ্গে বেলুড় মঠের নূতন জমিতে শুভাগমন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর নিত্যপূজিত শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতিকৃতি। সেখানে তিনি নিজ শ্রীহস্তে পূজাস্থান পরিষ্কার করে ঠাকুরের প্রতিকৃতি বসিয়ে পূজা করেন।* এই সময়েই স্বামীজী মাকে বলেন, *'মা, তুমি আপনার জায়গায় আপন মনে হাঁপ ছেড়ে বেড়াও।”* এরপরও মা বহুবার বিভিন্ন উপলক্ষে মঠে এসেছেন এবং কখনও কখনও থেকেছেন।_       _নবনির্মিত বেলুড় মঠের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ৯ ডিসেম্বর, ১৮৯৮, যদিও ২ জানুয়ারি পাকাপাকিভাবে নীলাম্বরবাবুর ভাড়াবাড়ি ছেড়ে সকল সাধু-ব...

29> || বেলুড়মঠের খিচুড়ি ||

        29> || বেলুড়মঠের খিচুড়ি ||                 (সংগ্রহীত) শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব খিচুড়ি পছন্দ করতেন। প্রত্যেক অবতারেরই ছিল প্রিয় ভোজ্য বস্তু। এ-বিষয়ে বৈকুণ্ঠনাথ তাঁর লীলামৃতে লিখেছেন: অযোধ্যানাথ রামচন্দ্রের প্রিয় রাজভোগ, কৃষ্ণের- ক্ষীরসর, বুদ্ধদেবের ফাণিত (এক প্রকার মিষ্টান্ন), চৈতন্যের মালসা ভোগ (মৃৎপাত্র ভর্তি চিড়া, মুড়কি, দধি), শ্রীরামকৃষ্ণে পরমহংস দেবের  প্রিয় খিচুড়ি। এই প্রসঙ্গে একটি মজার ঘটনা মনে পড়ছে। এক নবীন সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে ঠাকুরের উৎসবে খিচুড়ি পরিবেশন করছেন। এক প্রবীণ সন্ন্যাসী তাঁকে বললেন, "জান, বেলুড় মঠের প্রসাদি খিচুড়ির শক্তি ও মহিমা? শোনো, তোমাকে একটা ঘটনা বলি। বেলুড় মঠে ভক্তেরা এলে বাবুরাম মহারাজ খুব যত্ন করে প্রসাদ খাওয়াতেন। এক বছর মঠে বেশি খরচের জন্য টাকার ঘাটতি (deficit) হয়। রাজা মহারাজ বাবুরাম মহারাজকে তা বলতে বাবুরাম মহারাজ বলেন যে, তিনি ভিক্ষা করে ওই ঘাটতি পূরণ করে দেবেন। এ-সংবাদ উদ্বোধনে পৌঁছলে ব্রহ্মচারী গণেন (ব্রহ্মচারী গণেন ছিলেন 'উদ্বোধন' পত্রিকার প্রকাশন বিভাগের ব্যবস্থাপক। স্বামী...

28> || রাজা মহারাজ ,এবং ||

  28> || রাজা মহারাজ ,এবং ||  || স্বামী নির্বাণানন্দ এবং স্বামী চিন্ময়ানন্দজী মহারাজ || 【বেলুড় মঠের রাজা মহারাজ বলতে প্রধানত স্বামী বিবেকানন্দের প্রধান ভ্রাতৃ-শিষ্য এবং রামকৃষ্ণ সংঘের প্রথম সভাপতি স্বামী ব্রহ্মানন্দ, যিনি 'রাজা মহারাজ' বা 'রাখাল মহারাজ' নামে পরিচিত ছিলেন।】 আমার সৌভাগ্য হয়েছিল মিশনের একজন ব্রহ্মজ্ঞানী সাধু কে সেবা করার। তাঁর নাম টা আমি খুব সন্তর্পণে নিচ্ছি। কারণ , আমি মনে করি ওঁনার নাম উচ্চারণ করার মতো যোগ্যতা আমার নেই।  তিঁনি স্বামী নির্বাণানন্দ। মঠের সকলের কাছে সূর্য মহারাজ। তিঁনি পূর্বাশ্রমজীবনে স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং রাজা মহারাজের সেবক ছিলেন। প্রিয়তম সেবক বললে ভুল বলা হবে না। তাঁর মুখ থেকে রাজা মহারাজের একটি স্মৃতি মনে পড়ছে। এটি বইতে কোথাও পাবেন না। এটা এর আগে লেখা হয়নি।  শচীন মহারাজ ( স্বামী চিন্ময়ানন্দজী ) ছিলেন শ্রীশ্রীমায়ের আশ্রিত সন্তান। পূর্বাশ্রমে তিঁনিও ছিলেন দুর্ধর্ষ বিপ্লবী। নির্বাণানন্দজীরই সমসাময়িক। একবার তিঁনি বেলুড়ে বসবাস করছেন। সেই খবর গেছে তদানীন্তন কলকাতার ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনার চার্লস্ টেগা...

27>||বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্ট হোম ||

    27>||বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্ট  হোম || দেখতে দেখতে মায়ের মৃত্যু বার্ষিকীর এক বছর হয়ে যাবে ১১ই এপ্রিল। মনে পড়ে যাচ্ছে এই রকম যখন বাবা চলে গেছিলেন আমাদের দু বোনেরই বয়স অনেকটা কম ২০০২ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারী, সরস্বতী পুজো। বাবা চলে যাবার পরে আমি একা যাই সত্যকৃষ্ণ মহারাজের (স্বামী আত্মস্থানন্দজী মহারাজ ) কাছে। তখন একাই যেতাম এই কারণে দিদির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সব জায়গায় ও ততটা যেতে পারতো না যতটা আমি মহারাজের সঙ্গে ঘুরতে পারতাম। মহারাজের সঙ্গে মহারাজের অনেক ভক্ত থাকলেও তারা বয়সে অনেকটা বড় হওয়ায় আমার নাম গুলো অত সবার মনে নেই। তবে দুজন মহারাজের শিষ্য আমার মতন। তারা দুই ভাই বোন তাদের সঙ্গে আমার আজও যোগাযোগ আছে কারণ মহারাজ নিজে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে।  তারা হলেন দেবরাজ মিত্র এবং ওর দিদি নীলাঞ্জনা মিত্র কুন্ডু। ওরা দুই ভাই বোন আমার মতন মহারাজের খুব স্নেহের পাত্র ছিল। বাবা মারা যাবার পর মহারাজের কাছে যেতেই মহারাজ সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলেন যে ওনার টাইফুন পিতৃ হারা হয়েছে জেনে। উনি ওনার ঘরে প্রসাদ খাইয়ে বললেন " তোকে আমার সব থেকে প্রিয় জায়গায় পাঠাবো। দেখবি কত ত...

26>|| শ্রী শ্রী ঠাকুরের ভক্ত নাগমহাশয় |

    26>|| শ্রী শ্রী ঠাকুরের ভক্ত নাগমহাশয় || আপনারা তো জানেন নাগমশায় কীরকম ভক্ত ছিলেন !     ঠাকুরের অসুখ । খেতে রুচি নেই । বলছেন – দুটো আমলকী যদি পাওয়া যায় । তখন আমলকীর সময় নয় । কিন্তু নাগমশায় খুঁজতে বেরোলেন কোথায় আমলকী পাওয়া যায় । বোধ হয় তিন দিন তাঁর দেখা নেই । তারপর এ-জঙ্গল সে-জঙ্গল ঘুরে, শেষে একটি আমলকী পেয়েছেন । সেটি এনে ঠাকুরকে দিলেন । তিন দিন তিন রাত ঘুম নেই, খাওয়া নেই – খুঁজে বেড়াচ্ছেন কোথায় আমলকী পাওয়া যায় ! এই হচ্ছে ভক্ত । আরেকবার শ্রীশ্রীমা প্রসাদ দিয়েছেন নাগমশায়কে – শালপাতায় । নাগমশায় প্রসাদ তো খেলেনই, শালপাতাটিও খেতে আরম্ভ করেছেন । প্রসাদ ছিল শালপাতায়, সেটাও পবিত্র । তাই সেটাও খাচ্ছেন । গলায় আটকে যেতে পারে, কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । এমনি অবুঝ ! এ-ই হচ্ছে ভক্ত । কোনো সংজ্ঞা দিয়ে তাকে বোঝানো যায় না । . গ্রন্থ : ভক্তের ভগবান (পৃষ্ঠা – ১৪) । লেখক : স্বামী লোকেশ্বরানন্দজী মহারাজ          ( সংগ্রহীত)  ======================

25>|| স্বামী বিবেকানন্দকে হত্যার ছক::--

   25>|| স্বামী বিবেকানন্দকে হত্যার ছক::-- স্বামী বিবেকানন্দকে বিষ খাইয়ে হত্যার ছক! কফিতে চুমুক দেওয়ার ঠিক এক সেকেন্ড আগে কী ঘটেছিল? স্বামীজিকে বিষ খাইয়ে খুনের প্ল্যান একদম রেডি। কফিতে চুমুক দেওয়ার ঠিক এক সেকেন্ড আগে এমন এক ঘটনা ঘটল, যা জানলে আজও আপনার শিউরে উঠবেন। সময়টা ১৮৯৪ সালের মার্চ মাস। আমেরিকার ডেট্রয়েট (Detroit) শহর। স্বামী বিবেকানন্দ তখন আমেরিকার বুকে এক পরিচিত নাম। কিন্তু তাঁর এই জনপ্রিয়তাই কাল হয়ে দাঁড়ালো কিছু অসাধু আমেরিকান ধর্মপ্রচারক বা মিশনারিদের জন্য। সে যুগে তারা একটা নোংরা ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল। তারা আমেরিকানদের মিথ্যে গল্প শোনাতো যে, ভারতীয়রা এতটাই অসভ্য যে তারা নিজেদের বাচ্চাদের গঙ্গার কুমিরের মুখে ছুঁড়ে দেয়! এই মিথ্যে গল্প শুনিয়ে, অসভ্য ভারতীয়দের "সভ্য" করার নাম করে তারা ইমোশনাল আমেরিকানদের থেকে প্রচুর ডলার চাঁদা তুলত। কিন্তু স্বামীজি যখন নিজের জ্ঞানের জোরে আমেরিকার মাটিতে আসল ভারতের রূপ তুলে ধরলেন, তখন ওই ধর্মপ্রচারকদের মিথ্যে ব্যবসা একেবারে লাটে ওঠে। হু হু করে কমতে থাকে তাদের ডোনেশন। রাগে অন্ধ হয়ে তারা ছক কষে বাংলার বীর সন্ন্যাসীকে চিরতর...