31>|| বেলুরমঠ ||
31>|| বেলুরমঠ ||
*রামকৃষ্ণলোক*সঙ্ঘজননী শ্রীশ্রীমায়ের বেলুড় মঠের জমিতে শুভ পদার্পণ ঘটে ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ সোমবারে।* মঠ তখন নীলাম্বরবাবুর ভাড়াবাড়িতে। শ্রীশ্রীমা প্রথমে সেখানে আসেন। *'মা যাবার [কলকাতায় ফিরবার] আগে যেন মঠের নূতন জমিতে একবার পদধূলি দিয়ে যান।'----স্বামী ব্রহ্মানন্দের এই সানুনয় প্রার্থনায় মায়ের সেদিন ঐ জমি দেখতে যাওয়া।"* এরপর পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী *১২ নভেম্বর ১৮৯৮, শ্রীশ্রীমা প্রথমে নীলাম্বরবাবুর ভাড়াবাড়িতে অবস্থিত মঠে ও পরে মঠের সাধুদের সঙ্গে বেলুড় মঠের নূতন জমিতে শুভাগমন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর নিত্যপূজিত শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতিকৃতি। সেখানে তিনি নিজ শ্রীহস্তে পূজাস্থান পরিষ্কার করে ঠাকুরের প্রতিকৃতি বসিয়ে পূজা করেন।* এই সময়েই স্বামীজী মাকে বলেন, *'মা, তুমি আপনার জায়গায় আপন মনে হাঁপ ছেড়ে বেড়াও।”* এরপরও মা বহুবার বিভিন্ন উপলক্ষে মঠে এসেছেন এবং কখনও কখনও থেকেছেন।_
_নবনির্মিত বেলুড় মঠের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ৯ ডিসেম্বর, ১৮৯৮, যদিও ২ জানুয়ারি পাকাপাকিভাবে নীলাম্বরবাবুর ভাড়াবাড়ি ছেড়ে সকল সাধু-ব্রহ্মচারী বেলুড় মঠে এসে থাকতে শুরু করেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন স্বামীজী, স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী শিবানন্দ, স্বামী প্রেমানন্দ প্রমুখ শ্রীশ্রীঠাকুরের অন্তরঙ্গ ও ত্যাগী পার্ষদরা।_
_*বেলুড় মঠে শ্রীরামকৃষ্ণের জীবন্ত উপস্থিতির কথা আমরা নানা সূত্রে জানতে পারি।* স্বামীজী ও স্বামী ব্রহ্মানন্দজী তো বটেই, ঠাকুরের অন্য পার্ষদরাও তাঁকে মঠে প্রত্যক্ষ দেখতেন। স্বামী প্রেমানন্দজী একদিন অন্যকে বলছেন, 'আমি একখানি নূতন কাপড় ঠাকুরকে নিবেদন করে পরতে যাচ্ছি, *ঠাকুর এসে আমায় বল্লেন, "হ্যাঁরে বাবুরাম, তুই নূতন কাপড় পরচিস, আর আমার জামা যে কেটে দিয়েচে! আমায় তুই কি আর ভালবাসিস না?"* তারপর ঠাকুরঘরে গিয়ে দেখা গেল, *সত্যই ঠাকুরের জামা (ছবিতে পরানো) ইঁদুরে কেটে দিয়েছে। প্রবীণ সাধুদের পরম্পরায় শ্রুত যে, যখন নিত্য মঙ্গলারতির পর শিবানন্দজী মন্দিরে যেতেন, ঠাকুর সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে চিবুক ধরে তাঁকে আদর করতেন।'*' এছাড়া প্রেমানন্দজী ও শিবানন্দজীর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায় যে, *তাঁরা দেখতেন, ঠাকুর মন্দিরের বারান্দায় বা মঠপ্রাঙ্গণের এদিক-ওদিক পায়চারি করছেন। সেইজন্য তাঁরা বিশেষভাবে খেয়াল রাখতেন মঠপ্রাঙ্গণে যেন চোরকাঁটা বা ইঁটের টুকরো পড়ে না থাকে যাতে শ্রীশ্রীঠাকুর স্বচ্ছন্দে সেখানে বেড়াতে পারেন।*_
📒রামকৃষ্ণ চেতনা,
স্বামী মেধসানন্দ
(সংগ্রহীত)
Comments
Post a Comment