Posts

Showing posts from July, 2025

ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ভাবনা:::--

 সমাজে শ্রীরামকৃষ্ণের ধর্মভাবনা" শীর্ষক প্রবন্ধ ::--- ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ভাবনা:::--  শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব প্রকৃত মানবপ্রেমিক। তিনি মানবচরিত্রের বাহ্যিক পরিবর্তনের থেকে, চাইতেন চরিত্রের আমূল পরিবর্তন।  বলতেন, মন ও মুখ এক করতে। তাই তিনি তথাকথিত সমাজ সংস্কারকদের চেয়ে অধিকতর প্রগতিবাদী সমাজের প্রতি মন নিবেশ করতেন। শ্রীরামকৃষ্ণ সম্পর্কে গিরিশ ঘোষ বলেছেন, 'আপনার সব বেআইনি' অর্থাৎ প্রচলিত প্রথার উল্টো। সাধারণ ধারণায় মদ্যপান ব্যতীত তন্ত্রসাধনা হয় না। অথচ মদ্যপান ছাড়াই শ্রীরামকৃষ্ণ তন্ত্রমতের সকল সাধনায় সিদ্ধকাম। উচ্চকণ্ঠে মন্ত্র উচ্চারণ করলেই ঠাকুরের সার্থক আরাধনা হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের পূজাপদ্ধতি ছিল বিধি বহির্ভূত। তিনি মা ভবতারিণীকে মৃন্ময়ী ভাবেন না, ভাবেন তিনি চিন্নয়ী। এই ভাবনাতেই তিনি তাঁকে জাগ্রত করেছেন --- তাঁর সঙ্গে সদালাপ করেছেন। তিনিই বলেন, পূজা মানে নিষ্ঠা ও একাগ্রতা দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসা। তাঁরই কথা 'মন তোর মন্তর'। মনই আসল জিনিস। তিনি বলতেন, 'ঈশ্বর মন দেখেন।' আবার কখনও বলেছেন, "মনেতেই শুদ্ধ, মনেতেই অশুদ্ধ' --- 'মনেতেই মুক্ত, মনেতেই বদ্ধ...

ঠাকুরে আর্শিবাদ ধন্য ফনিশ্বরনাথ রেণু।

 ঠাকুরে আর্শিবাদ ধন্য  ফনিশ্বরনাথ রেণু। হিন্দি সাহিত্যে  প্রেমচন্দ্রের পরে তাঁকেই সাহিত্য জগতের স্তম্ভের মর্যাদা প্রদান করা হয়। "  বালতি - বালতি রক্তবমির ফলে আমি তখন ঠান্ডা হয়ে গেছি। ওইদিন আমাদের ওয়ার্ড এ আধ ডজনের বেশি লোক মারা গেছেন। পাখা বন্ধ, কলে জল নেই। আমার জিভে থুতু আঠার মতো আটকে গেছে -- নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে -- ফুসফুসের রোগী আমি -- শেষ  সময় পর্যন্ত হুঁশ আছে -- ওয়ার্ডে জলের হাহাকার -- আমার থেকে - থেকে ঘুম আসছে -- দুর্গন্ধে জায়গাটা নরক।হঠাৎ চোখ খুলতেই দেখি, আমার শরীরের উপর একটা ছায়া ঝুঁকে  - ছায়াটি তারপর সরে গেল। বুঝতে পারলাম, মৃত্যুপথযাত্রী বেওয়ারিশ রোগীর চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক ডোম; মরলেই দখল নেবে; পরীক্ষা করে দেখছিল, শ্বাস বের হচ্ছে কি না ? আমাকে জীবিত দেখে সে ছিটকে সরে গিয়ে দাঁড়াল।...  " এমনসময়ে এক দাড়িওয়ালা, পাগল বা নেশাখোর, হাতে গাঁজার কল্কে , ধোঁয়া ওড়াতে - ওড়াতে আমার পাশে এল।... আমাকে সে জিজ্ঞাসা করল  -- ' তুমি কাঁদছ কেন ?' এবং আশ্চর্য  -- আবার হাসতে হাসতে বাংলাতেও বলল - দূর্ শালা! কাঁদছিস্ কেন? আমি বললাম - ' আ...

স্বামীজীর মা::--

 স্বামীজীর মা::-- স্বামী বিবেকানন্দের মা ভুবনেশ্বরী দেবী (১৮৪১---১৯১১)  ১৯১১ সালে প্রয়াত হন। তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা এবং স্বামী বিবেকানন্দের আধ্যাত্মিক জীবনে তাঁর গভীর প্রভাব ছিল। তিনি ছিলেন স্বামীজির জ্ঞান বিকাশের অনুপ্রেরণা।  ভুবনেশ্বরী দেবী ১৮৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১১ সালের ২৫শে জুলাই মারা যান। তিনি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের পিতা বিশ্বনাথ দত্তের স্ত্রী এবং নরেন্দ্রনাথ দত্ত (পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দ) সহ তাঁর পাঁচ সন্তানের জননী। তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতিবান মহিলা, যিনি সঙ্গীত ও আবৃত্তিতে পারদর্শী ছিলেন এবং রামায়ণ ও মহাভারত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। স্বামী বিবেকানন্দ তার মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখতেন এবং প্রায়ই তাঁর আধ্যাত্মিক ও জ্ঞান বিকাশে মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করতেন।  স্বামী বিবেকানন্দ একবার বলেছিলেন- "আমার জ্ঞানের প্রসারের জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।" আমরা জানি ভুবনেশ্বরী দেবীর ধর্মীয় স্বভাব শৈশবে নরেন্দ্রনাথকে অত্যন্ত প্রভাবিত করেছিল।   স্বামীজির ১৬১তম জন্মবার্ষিকী। যুব সমাজের নবজাগরণের পথিক বিবেকানন্দ । স্বামী বিবেকানন্দ...

গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।

 ।।গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।  এই সম্বন্ধে ভূতেশানন্দজী মহারাজ বলেছিলেন তার ভক্তদের ......মহারাজ বলেছিলেন, " গুরুতে কখন সাধারণ মনুষ্য বুদ্ধি করতে নেই ।গুরুই ইষ্ঠ আবার ইষ্ট ই গুরু। এ সম্বন্ধে তিনি একটি সুন্দর গল্প বলেছিলেন ( ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন এই ধরনের ঘটনা )         একবার এক গুরু পুত্রের অন্নপ্রাশনে ,গুরুজী তার সকল শিষ্যদের বলেছিলেন তোমরা যে যেমন পারবে আমাকে সাহায্য করবে এই শুভ কাজে। শিষ্য রা যে যেমন পারলো, কেউ সব্জি, কেউ চাল কেউ মিষ্টি নিয়ে এলো,তার মধ্যে একজন খুবই গরীব বিধবা এক ঘটি দুধ যোগাড় করে এনেছিল ।গুরু ঐ অল্প দুধ দেখে  রেগে দুধ ফেলে দিয়ে বল্লেন, " নদীতে ডুবে মরতে পারলি নে"? সে সরল গুরু বিশ্বাসী, " গুরুতে আজ্ঞা বলে কথা" , সে নদীতে ডুবতে গিয়ে দেখে স্বয়ং নারায়ণ এক ছোট্ট হাঁড়িতে  দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আর বল্লেন গুরুকে নিয়ে দিগে, এতেই তিনি সন্তুষ্ট হবেন।        গুরুদেব ঐ দুধ যতোই তিনি জালা তে ঢালছেন ততই ঐ ছোট্ট হাঁড়িরর দুধ ভরে যাচ্ছে ।গুরুদেব এই আশ্চর্য জনক ঘটনা দেখে বল্লেন কে দিয়েছে এই দুধ। তিনি ঐ বিধবা মহি...