ঠাকুরে আর্শিবাদ ধন্য ফনিশ্বরনাথ রেণু।

 ঠাকুরে আর্শিবাদ ধন্য  ফনিশ্বরনাথ রেণু।

হিন্দি সাহিত্যে  প্রেমচন্দ্রের পরে তাঁকেই সাহিত্য জগতের স্তম্ভের মর্যাদা প্রদান করা হয়।


"  বালতি - বালতি রক্তবমির ফলে আমি তখন ঠান্ডা হয়ে গেছি। ওইদিন আমাদের ওয়ার্ড এ আধ ডজনের বেশি লোক মারা গেছেন। পাখা বন্ধ, কলে জল নেই। আমার জিভে থুতু আঠার মতো আটকে গেছে -- নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে -- ফুসফুসের রোগী আমি -- শেষ  সময় পর্যন্ত হুঁশ আছে -- ওয়ার্ডে জলের হাহাকার -- আমার থেকে - থেকে ঘুম আসছে -- দুর্গন্ধে জায়গাটা নরক।হঠাৎ চোখ খুলতেই দেখি, আমার শরীরের উপর একটা ছায়া ঝুঁকে  - ছায়াটি তারপর সরে গেল। বুঝতে পারলাম, মৃত্যুপথযাত্রী বেওয়ারিশ রোগীর চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক ডোম; মরলেই দখল নেবে; পরীক্ষা করে দেখছিল, শ্বাস বের হচ্ছে কি না ? আমাকে জীবিত দেখে সে ছিটকে সরে গিয়ে দাঁড়াল।... 

" এমনসময়ে এক দাড়িওয়ালা, পাগল বা নেশাখোর, হাতে গাঁজার কল্কে , ধোঁয়া ওড়াতে - ওড়াতে আমার পাশে এল।... আমাকে সে জিজ্ঞাসা করল  -- ' তুমি কাঁদছ কেন ?' এবং আশ্চর্য  -- আবার হাসতে হাসতে বাংলাতেও বলল - দূর্ শালা! কাঁদছিস্ কেন? আমি বললাম - ' আমার অনেক কাজ করবার ছিল, কিন্তু করা হল না। আমি শুয়ে থাকতে চাইনা ।' দাড়িওয়ালা গম্ভীর ভাবে ব্যঙ্গের স্বরে বলল -- ' দেশকে তো উদ্ধার করেছ, আর কি! .... তোর তো সোনার কলম? ' ' হ্যাঁ, পার্কার ফিফটি ওয়ান' -- আমি লজ্জার সঙ্গে বললাম।দাড়িওয়ালা বলল -- ' এই সোনার কলম দিয়ে কি - কি লিখেছিস? -- কখনো আমার নাম লিখেছিস? দূর্ শালা, কিছুই জানে না -- ... তোর রোগ কিছুই নেই, তুই রোগী নয় - তুই সুস্থ - সুস্থ - ওঠ্!'

" চোখ খুলে দেখি, ওয়ার্ডের বারান্দা রোদে ঝলমল করছে। মনে হল, আমি সুস্থ হয়ে গেছি । দেড় বছর ধরে জ্বর চলেছে, তা আজ আধ ডিগ্রী কমে গেল -- এই প্রথমবার। ডাক্তার হর্ড সাহেব এলেন -- সংকটের রাত কেটে গেছে।

" হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে .... আমি এক বইএর দোকানে গেলাম। বাংলা বইএর মধ্যে একটি প্রচ্ছদ আমাকে আকর্ষণ করল -- ' পরমপুরুষ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ' -- লেখক , অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত। প্রচ্ছদপট পরিকল্পনা -- সত্যজিৎ রায়ের ( ঐ সময় পর্যন্ত উনি চিত্র পরিচালক হন নি )। ভিতরের ছবিগুলি দেখে আমি ঘাবড়ে গেলাম। এতো - তো - তো - তো - ঐ দিনে.... রাতে দেখা  -- সেই মূর্তি।

" রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সাহিত্য পড়া শুরু করলাম। বহুদিনের অভুক্ত মানুষের যেন আহার জুটে গেল। বারবার পড়েও যেন তৃপ্তি হত না।

 রামকৃষ্ণের ছবির সামনে বসে আমার প্রথম উপন্যাস লিখতে শুরু করলাম। পাণ্ডুলিপির উপর সবার আগে ওঁ নমো ভগবতে শ্রী রামকৃষ্ণায় নমঃ লিখতে চাইছিলাম। -- ' সে কি রে ! সোনার কলম দিয়ে বই লিখবি? আমার নাম লিখবি? প্রথমে গণেশের নাম লিখতে হয় রে বোকা' ...

শ্রী রামকৃষ্ণের দর্শন পেয়েছিলেন তিনি। সে অমৃত স্পর্শে মথিত হয়েছিল তাঁর জীবন। শ্রী রামকৃষ্ণের কৃপাধণ্য এই মানুষটি ফনিশ্বরনাথ রেণু। হিন্দি সাহিত্যে  প্রেমচন্দ্রের পরে তাঁকেই সাহিত্য জগতের স্তম্ভের মর্যাদা প্রদান করা হয়।( সংক্ষেপিত )

তথ্য সূত্র: নিবোধত , সেপ্টেম্বর - অক্টোবর ২০২১।

Comments

Popular posts from this blog

স্বামীজীর মা::--

||বেলুড়মঠের প্রতিষ্ঠার কথা::---

গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।