28> || রাজা মহারাজ ,এবং ||

  28> || রাজা মহারাজ ,এবং ||


 || স্বামী নির্বাণানন্দ এবং স্বামী চিন্ময়ানন্দজী মহারাজ ||



【বেলুড় মঠের রাজা মহারাজ বলতে প্রধানত স্বামী বিবেকানন্দের প্রধান ভ্রাতৃ-শিষ্য এবং রামকৃষ্ণ সংঘের প্রথম সভাপতি স্বামী ব্রহ্মানন্দ, যিনি 'রাজা মহারাজ' বা 'রাখাল মহারাজ' নামে পরিচিত ছিলেন।】


আমার সৌভাগ্য হয়েছিল মিশনের একজন ব্রহ্মজ্ঞানী সাধু কে সেবা করার। তাঁর নাম টা আমি খুব সন্তর্পণে নিচ্ছি। কারণ , আমি মনে করি ওঁনার নাম উচ্চারণ করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। 


তিঁনি স্বামী নির্বাণানন্দ। মঠের সকলের কাছে সূর্য মহারাজ। তিঁনি পূর্বাশ্রমজীবনে স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং রাজা মহারাজের সেবক ছিলেন। প্রিয়তম সেবক বললে ভুল বলা হবে না। তাঁর মুখ থেকে রাজা মহারাজের একটি স্মৃতি মনে পড়ছে। এটি বইতে কোথাও পাবেন না। এটা এর আগে লেখা হয়নি। 


শচীন মহারাজ ( স্বামী চিন্ময়ানন্দজী ) ছিলেন শ্রীশ্রীমায়ের আশ্রিত সন্তান। পূর্বাশ্রমে তিঁনিও ছিলেন দুর্ধর্ষ বিপ্লবী। নির্বাণানন্দজীরই সমসাময়িক। একবার তিঁনি বেলুড়ে বসবাস করছেন। সেই খবর গেছে তদানীন্তন কলকাতার ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনার চার্লস্ টেগার্ট সাহেবের কাছে। তিনি তার বিপুল পুলিশ বাহিনি ভর্তি নৌকা নিয়ে গঙ্গাপথে বেলুড়ের দিকে ক্রমশ ধাবিত হচ্ছে শচীন মহারাজকে আটক করার উদ্দেশ্যে। মঠের প্রেসিডেন্ট তখন রাজা মহারাজ।চিন্ময়ানন্দজী খবর পেয়ে মহারাজের কাছে আশীর্বাদ নিতে গেলেন। " মহারাজ , আমাকে তো যেতে হবে। টেগার্ট সাহেব আসছেন আমায় আটক করতে। এবার ওরা কারাবাসে আমায় আটক করে চূড়ান্ত নির্যাতন করবে "। মহারাজ হেসে ধীর ভাবে বললেন , " যা , এখানে কোথাও একটা লুকিয়ে পড়। আমি দেখছি "। কিছুক্ষণ পর অবাককান্ড। দেখা গেল , প্রতাপশালী টেগার্ট সাহেব তার নৌবাহিনীসহ মাঝগঙ্গা অবধি এসে আবার ফিরে কলকাতার দিকে চলে গেল। আর বেলুড়ের দিকে কখনো এলোই না। নৌকা ফিরতি পথে চলে যাওয়ার পর , রাজা মহারাজ শচীন মহারাজ কে উদ্দেশ্য করে বললেন , " কই রে , এবার বেরিয়ে আয়। তোর টেগার্ট সাহেব তো চলে গেছে "। বিস্ময়াবনত শচীন মহারাজ বলছেন , " মহারাজ , এ কী ভাবে সম্ভব হল ! মহাপ্রভাবশালি টেগার্ট সাহেব , যার কাছে কোনও কিছু অসম্ভব নয় , তাকে এভাবে ফেরালেন কী করে " ?  মহারাজজী স্মিত হেসে সুদৃঢ় ভাবে বললেন , " আমি মাঝ গঙ্গা অবধি বেলুড়ের চারপাশে একটি spiritual guard-wall তুলে দিলাম। সেই অদৃশ্য প্রাচীর তোর টেগার্ট সাহেব কেন , স্বর্গের দেবতা পর্যন্ত এসে ভেদ করুক সাধ্যি নেই "। এই হল রামকৃষ্ণ - বিবেকানন্দ ভাবান্দোলনের শক্তি। এই হল রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতা।


- শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ ( কল্যাণীতে প্রদত্ত ভাষণ অবলম্বনে )

১৭ | ০৩ | ২০২৬

           (সংগ্রহীত)

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

Comments

Popular posts from this blog

স্বামীজীর মা::--

||বেলুড়মঠের প্রতিষ্ঠার কথা::---

গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।