29> || বেলুড়মঠের খিচুড়ি ||

        29> || বেলুড়মঠের খিচুড়ি ||

                (সংগ্রহীত)

শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব খিচুড়ি পছন্দ করতেন। প্রত্যেক অবতারেরই ছিল প্রিয় ভোজ্য বস্তু। এ-বিষয়ে বৈকুণ্ঠনাথ তাঁর লীলামৃতে লিখেছেন: অযোধ্যানাথ রামচন্দ্রের প্রিয় রাজভোগ, কৃষ্ণের- ক্ষীরসর, বুদ্ধদেবের ফাণিত (এক প্রকার মিষ্টান্ন), চৈতন্যের মালসা ভোগ (মৃৎপাত্র ভর্তি চিড়া, মুড়কি, দধি), শ্রীরামকৃষ্ণে পরমহংস দেবের  প্রিয় খিচুড়ি।


এই প্রসঙ্গে একটি মজার ঘটনা মনে পড়ছে। এক নবীন সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে ঠাকুরের উৎসবে খিচুড়ি পরিবেশন করছেন। এক প্রবীণ সন্ন্যাসী তাঁকে বললেন, "জান, বেলুড় মঠের প্রসাদি খিচুড়ির শক্তি ও মহিমা? শোনো, তোমাকে একটা ঘটনা বলি। বেলুড় মঠে ভক্তেরা এলে বাবুরাম মহারাজ খুব যত্ন করে প্রসাদ খাওয়াতেন। এক বছর মঠে বেশি খরচের জন্য টাকার ঘাটতি (deficit) হয়। রাজা মহারাজ বাবুরাম মহারাজকে তা বলতে বাবুরাম মহারাজ বলেন যে, তিনি ভিক্ষা করে ওই ঘাটতি পূরণ করে দেবেন। এ-সংবাদ উদ্বোধনে পৌঁছলে ব্রহ্মচারী গণেন (ব্রহ্মচারী গণেন ছিলেন 'উদ্বোধন' পত্রিকার প্রকাশন বিভাগের ব্যবস্থাপক। স্বামী সারদানন্দ প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকার প্রকাশনা ও প্রশাসনিক দিকগুলো তিনি বাবুরাম মহারাজের নির্দেশনায় পরিচালনা করতেন । বাবুরাম মহারাজ যখন ভক্তদের প্রসাদ খাওয়াতেন, তখন তিনি তা পরিচালনা করতেন ।) 

ব্রহ্মচারী গণেন বলেন: 'বাবুরাম মহারাজ বেলুড় মঠে হোটেল খুলে দিয়েছেন। তিনি কেবল ভক্তদের প্রসাদ খাওয়াতে ব্যস্ত।' বাবুরাম মহারাজ তাঁর মন্তব্য শুনে বললেন -- ছেলেমানুষ ও কী জানে? আমি ভক্তদের প্রসাদ খাওয়াই– ফলে তাদের ভক্তি হয়। তারপর ওই ভক্তির জোরে তারা উদ্বোধনে গিয়ে বই কেনে। ওদের বই বিক্রির পিছনে রয়েছে ঠাকুরের প্রসাদ।' দেখো, বেলুড় মঠের খিচুড়ি প্রসাদের শক্তি।"


 তথ্যসূত্র: 'নিবোধত' জুলাই-আগস্ট ২০২২,(স্বামী চেতনানন্দজীর 'শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মোৎসবের ইতিবৃত্ত' রচনাটির অংশবিশেষ।)

        (সংগ্রহীত)

=======================

Comments

Popular posts from this blog

স্বামীজীর মা::--

||বেলুড়মঠের প্রতিষ্ঠার কথা::---

গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।