তিনি সর্বভূতে বিরাজমান" ::----
"তিনি সর্বভূতে বিরাজমান" ::----
এটি হিন্দু ধর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ, অভূতপূর্ব ধারণা, যে ধারনার দ্বারা বুঝতে পারাজায় যে পরম সত্তা বা ঈশ্বর সকল জীব এবং বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান, বিরাজমান। এটি ঈশ্বরকে সর্বব্যাপী এবং সকল প্রাণীর সঙ্গে একাত্ম হবার ধারণা বোঝায়।
যেমন শক্তি হিসেবে:
"ঈশ্বরকে শক্তিরূপী দেবী দুর্গারূপেও কল্পনা করা হয়, যিনি সর্বভূতে চেতনা, বুদ্ধি, শক্তি, শান্তি, শ্রদ্ধা, দয়া ইত্যাদি রূপে বিরাজমান।"
একত্ববাদ:
"ঈশ্বরকে এক এবং সর্বব্যাপী সত্তা হিসেবে দেখা হয়, যা সকল জীব এবং বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান।"
ব্যবহারিক বেদান্ত:
"বেদান্তের আদর্শ অনুযায়ী, এই ধারণার অর্থ হলো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা এবং জাগতিক জীবনের সঙ্গে ঈশ্বরের একত্বকে অনুভব করা।"
আর এভাবেই বোধে বোধ হলেই অনুভব করা সহজ হয় যে ঈশ্বর সর্ব শক্তি মান।
এবং আমিও সেই ঈশ্বরের অংশ বিশেষ।
"তৎত্বমসি" " অহম্ ব্রহ্মাস্মি" ।
"তত্ত্বমসি" কি?
ঋষিশ্রেষ্ঠ স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “কেন আমাদের মধ্যে দুর্বলতা যায় না? অন্তরে অনন্ত শক্তি জাগ্রত হয় না? কারণ আমরা ‘তত্ত্বমসি’রূপ মহাবাক্যর রহস্য অবগত নই। অথচ এই রহস্য জানাই হল সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যা এবং সাধনা। তাই ‘তত্ত্বমসি’র রহস্য জানো। ‘তৎ-ত্বম-অসি’ কিনা তুমিই সেই মৃত্যুহীন জীবন, তুমিই অনন্ত জ্ঞানস্বরূপ, তুমিই হলে অনন্ত আনন্দময়–অমৃতস্য পুত্র। অতএব এইরূপে নিজেকে জানো। আর তখনই কেবল তুমি যা চাইবে, তাই পাবে।''
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন---
"যতক্ষন না তুমি ঈশ্বরকে অনুভব করছ ততক্ষণ ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিশ্বাস করোনা।
অর্থাৎ ঈশ্বর বলে কোনকিছুর অস্তিত্ব যদি থাকে, তবে আমাকে তাকে অনুভব করতে হবে। শুধু মাত্র অপরের কথায় চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরের অস্তিত্বের বিশ্বাস করা অনুচিত। বিজ্ঞান যেমন প্রমান সাপেক্ষ, অধ্যানত্মিকতাও তেমনি প্রমাণ সাপেক্ষ।
স্বামী বিবেকানন্দ ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের সাথে পাথম সাক্ষাতেই ঠাকুরকে প্রশ্ন করেছিলেন আপনি ঈশ্বরকে দেখেছেন?
ঠাকুরও তৎক্ষনাৎ তাকে উত্তর দিয়েছিলো। দেখেছি কিরে তোকেও দেখতে পারি ।
নানক,কবীর, তুকারাম, মীরা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এরা সকলেই ভগবানের দর্শন লাভ করেছিলেন।
কিন্তু প্রশ্ন হোল, আমিতো ঈশ্বর কে দেখিনি, তাহলে আমি কিভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিশ্বাস করবো?
বেদান্ত এর উত্তর দিয়েছে, বলছে, তুমি নিজে খোঁজ, আমি কে? এর উত্তর যেদিন তুমি পাবে , তুমি বুঝবে তৎত্বমসি, তুমিই সে, বুঝবে অহম্ ব্রহ্মাস্মি। আমিই সেই
পড়াৎপর ব্রহ্ম।
উত্তরা খণ্ডে এক সাধু লেখককে বলেছিলেন । ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্ৰমাণ খুব সহজ, আমার অস্তিত্বই ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ।"
===============
ঠাকুর বলতেন হাততালি দিয়ে সকাল সন্ধ্যা হরিনাম করো। তাহলেই সব পাপ তাপ চলে যাবে।
যেমন গাছের তলায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে গাছের সব পাখি উড়ে যায়, তেমনি হাততালি দিয়ে হরিনাম করলে দেহ- রুপ গাছের সব অবিদ্যা রূপ পাখি উড়ে পালায়।
==========
ঈশ্বর কে--?
যিনি সর্ব সয় ও সর্ব সহায়, তিনি নিজে সবকিছু সহ্য করেণ, যত দুঃখ, কষ্ট, রোগ ভোগ,সকলি তিনি নিজে সয়।
তিনি সকলের সবকিছু সয়, তিনি সর্ব শক্তি মান,--- সর্ব সহায়।
তিনিই রোগ, তিনিই ভোগ,তিনিই সর্ব ভোগ, তিনিই সর্ব সহায়।
=================≠==
Comments
Post a Comment