>|| সৎ চিন্তাধারা::----Ramkrishna saranam.

 >|| সৎ চিন্তাধারা::----Ramkrishna saranam.


1>Ramkrishna saranam.

2>বুদ্ধ সম্পর্কে স্বামীজী।

======================

1>Ramkrishna saranam.........

   

            স্বামী বিজ্ঞানানন্দ

সমগ্র জগতের জন্য সৎ চিন্তাধারা প্রবাহিত করবে l 

সকলকার মঙ্গল হোক এটি রোজ প্রার্থনা করা উচিত l 

সকলের মঙ্গল হোক, জগতের মঙ্গল হোক, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এর মঙ্গল হোক ,

এ শুভেচ্ছা সদা  সর্বদা রেখ l 


◆সৎ জীবন যাপন কর l 

◆পবিত্র জীবন যাপন কর l 

◆স্বার্থহীন জীবন যাপন কর l 

এবং 

◆সর্বপোরি সেবকের জীবন যাপন কর l সেবা করবে,কিন্তু প্রতিদানে কোন আশা রেখো না l 


নিজ ধর্মে আস্থা স্থাপন, 

পর ধর্মে বিদ্বেষহীন আর সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকলে যে কোন অবস্থাতেই থাক না কেন, মা ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাবেন l 

স্বাধীন  সে-ই, যে ইন্দ্রিয়গুলিকে জয় করেছে l 

পরাধীন সে, যে ইন্দ্রিয়ের দাস l 

মা তো রক্ষা করছেনই, ডাক আর নাই ডাক l তবে ডাকলে আরো আনন্দে বিভোর হবে l 

     মাকে কায়মনোবাক্যে ডাকতে পারলে ভারী আনন্দ l   মায়ের সেই আনন্দজ্যোতি তো চারিদিকে ওতপ্রোতভাবে রয়েছে, আশ্চর্যের বিষয়, তা উপলব্ধি করতে পারছে না l

মনই  মানুষের একমাত্র সর্বশ্রেষ্ঠ ও একমাত্র সম্পদ l 

ঈশ্বর এই মনের গঠন এমনই করেছেন যে, সে তোমাকে মেনে চলবেই l

 মন স্বভাবত যদি অবাধ্য হত তাহলে আমরা কোন কাজের জন্য দায়ী হতাম না, তাহলে আমরা কোন কাজের জন্য দায়ী হোতাম না l 

  তাহলে  মানুষ স্বাধীনও হত না আর সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণীও হত না l 

তুমি তোমার মনের সম্পুর্ণ প্রভু l

      তুমি যেমন ভাবে ইচ্ছা,তাকে গড়ে পিটে তৈরী করে নিতে পর l 

মন যখন আমার হাতের মুঠোর ভিতর তখন সৎ চিন্তা ছাড়া অন্য কোনো খাদ্য তাকে দেওয়া হবে না l 

যেমন স্থুলতঃ আমরা বেশ বুঝি যে, আমাদের শরীর ধরণের জন্য ভাল ও পুষ্টিকর খাদ্য দরকার --- অনিষ্টকর বা বিষাক্ত খাবার শরীর নষ্ট করবে,

       সেজন্য যে করেই হোক শরীরকে উত্তম খাদ্য যুগিয়ে থাকি, তেমন-ই মনকেও  ◆পবিত্র চিন্তা, ◆সদ্বুদ্ধি ও ◆সদালোচনা দ্বারা পুষ্ট করতে হবে 

     অখাদ্যরূপ ◆কুচিন্তা বা ◆কুসঙ্গ মনকে দেওয়া হবে না l 

দেশ তো ব্যক্তিবিশেষের নয়, দেশ হলো সমগ্র দেশবাসীর l 

যে যে-অবস্থাতেই থাকুক না কেন, দেশমাতৃকার সেবা, জন-সাধারণের সেবা ও সর্বপরি ভগবৎ-সেবা সকলেই অল্পবিস্তর করতে পারে l 

সকলের মঙ্গল হোক -----এ শুভেচ্ছা সদা-সর্বদা রেখ l 

প্রকৃত শান্তিলাভ করতে হলে ত্যাগ চাই ; আত্মসংশোধন চাই, এই হলো সনাতন সত্য l 

     তা আধ্যাত্মিক জীবনেই বলুন বা রাজনৈতিক জীবনেই বলুন।

স্বার্থত্যাগের জন্য প্রস্তুত না থাকলে কোন কার্যেই সফলতা আশা করা সুদূরপরাহত l 

বাস্তবিকপক্ষে এই বিরাট জগৎ স্বার্থত্যাগের উপর প্রতিষ্ঠিত l

        একটাতেই ভগবানের শক্তির বিকাশ হয় l..... আমাদের উন্নতি প্রত্যেক ব্যক্তির উপর নির্ভর করে l

 প্রত্যেক ভারত-সন্তানকেই নেতা হবার উপযুক্ত হতে হবে --- অর্থাৎ চরিত্রবান, স্বার্থত্যাগী, পবিত্রাত্মা, উদারচেতা ;

       আর ভালবাসতে হবে দেশের লোকেদের l দশের যাতে ভালো হয় সেরকম কাজ যাতে প্রত্যেকে করতে পারি তারজন্য যত্নবান হতে হবে l 

আত্মসংযমী হয়ে ভগবানকে স্মরণ করতে হয় ; 

তিনিই কাজের শক্তি দেবেন l 

মায়ের সন্তান আমরা, আমাদের ভয় কি ? সত্যপথে দাড়াও আর তাঁকে ডাক, তিনি মঙ্গল করবেনই l 

জয় রামকৃষ্ণ ।।

         ( সংগ্রহ)

    আদ্যনাথ রায় চৌধুরী

=======================


2>বুদ্ধ সম্পর্কে স্বামীজী


               তাঁর বাণী ছিল এই আমাদের জীবনে এত দুঃখ কেন ?

  কারণ, আমরা অত্যন্ত স্বার্থপর। আমরা শুধু নিজেদের জন্য সব কিছু বাসনা করি—তাই তো এত দুঃখ।

এ থেকে নিষ্কৃতি লাভের উপায় কী? 

     আত্মবিসর্জন। ‘অহং’ বলে কিছু নেই—ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এই ক্রিয়াশীল জগৎ মাত্র আছে। জীবন-মৃত্যুর গতাগতির মূলে ‘আত্মা’ বলে কিছুই নেই। আছে শুধু চিন্তাপ্রবাহ, একটির পর আর একটি সঙ্কল্প। সঙ্কল্পের একটি ফুট উঠল, আবার বিলীন হয়ে গেল সেই মুহূর্তেই—এইমাত্র। এই চিন্তা বা সঙ্কল্পের কর্তা কেউ নেই—কোন জ্ঞাতাও নেই।

 দেহ অনুক্ষণ পরিবর্তিত হচ্ছে—মন এবং বুদ্ধিও পরিবর্তিত হচ্ছে। 

সুতরাং ‘অহং’ নিছক ভ্রান্তি। 


◆যত স্বার্থপরতা, তা এই ‘অহং’—মিথ্যা ‘অহং’কে নিয়েই। যদি জানি যে ‘আমি’ বলে কিছু নেই, তাহলেই আমরা নিজেরা শান্তিতে থাকব এবং অপরকেও সুখী করতে পারব।"

   ~ স্বামী বিবেকানন্দ       

           ( সংগ্রহ)

     আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।

=======================



গৌতম বুদ্ধ


ধ‍্যানের পর গৌতম বুদ্ধ বিশ্রাম নিতে যাবেন। এমন সময় এক দরিদ্র ব্যক্তি গৌতম বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলোঃ "আমি এতো দরিদ্র কেন?"


জবাবে গৌতম বুদ্ধ বললেনঃ "কারন তুমি দান কর না এবং করতেও জানো না।"


দরিদ্র ব্যক্তি বললোঃ "আমার তো দান করার মতো কিছুই নেই।"


অতঃপর গৌতম বুদ্ধ বললেনঃ "দান করার মতো অনেক জিনিস আছে তোমার কাছে, যা কারো কাছেই কম নেই (অর্থাৎ তা ধনী-গরীব সবার কাছেই সমপরিমাণ থাকে) আর তা হলো--


১. চেহারাঃ যা দ্বারা তুমি সুখ ও আনন্দের হাসি উপহার হিসেবে অন্যদের দিতে পারো।


২. মুখঃ যা দ্বারা তুমি মাধুর্যপূর্ণ উৎকৃষ্ট কথা বলে মানুষকে আনন্দ ও উৎসাহ প্রদান করতে পারো।


৩. হৃদয়ঃ যা তুমি আন্তরিকতা ও উদারতা দ্বারা অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারো।


৪. চোখঃ যা দ্বারা তুমি দয়া ও ভালোবাসার সাথে অন্যদের দেখতে পারো।


৫. দেহঃ যা দ্বারা তুমি নিজের শ্রমের মাধ্যমে অন্যদের সাহায্য প্রদান করতে পারো।


আর তাই তো তুমি একেবারেই দরিদ্র নও। মূলত হৃদয়ের দারিদ্রতাই প্রকৃত দারিদ্রতা, আর্থিক দারিদ্রতা মূল দারিদ্রতা নয়।"


#সংগৃহীত


Comments

Popular posts from this blog

স্বামীজীর মা::--

||বেলুড়মঠের প্রতিষ্ঠার কথা::---

গুরুভক্তি কেমন হওয়া উচিত ।।